Header Ads

Header ADS

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ কাহিনী - লেখা- আরিফ




টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ কাহিনী 

আরিফ



ভ্রমণকাহিনী লিখতে ইচ্ছে করে না। কারণ  লিখে, বুঝানো যায় না । তারপরেও লিখে রাখছি, নিজের কারনেই...

অসময়ে বসে বসে পড়ে যেন রি-কল করতে পারি । পূজার ছুটিতে যখন আমার সব কলিগরা ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, নেপালের ট্যুর প্ল্যান করছে, তখন আমরা হাওর দেখতে গিয়েছিলাম... টাঙ্গুয়ার হাওর যাবার আগে ২ কন্যাকে ডেকে বললাম, “এবার আমরা একদম গ্রামীণ একটা ট্রিপ করব... হাওর দেখতে যাব” ‘গ্রামীণ ইংলিশ কি বাবা?’ “রুরাল”

‘আর হাওর ইংলিশ?’

ইন্টারনেট খুঁজে বের করে বললাম “Backswamp”

‘আচ্ছা’

“এবার আরও মজা হবে রে... আমরা যেদিন যাচ্ছি সেদিন পূর্ণিমা”

‘পূর্ণিমা ইংলিশ কি বাবা?’

আবার মুখ চোখা করে ইন্টারনেট ঘেটে বললাম, “... the lunar phase when the Moon appears fully illuminated from Earth's perspective”

‘আচ্ছা’ আমি ভেবেছিলাম পূর্ণিমায় কিভাবে জোছনা উপভোগ করতে হয় সেটা নিয়ে একটা লেকচার দিব কিন্তু জোছনা মোছনার ইংলিশের ভয়ে আর আগাইনি... উল্টা ধমক দিয়ে বলেছি, “কথা কম... ব্যাগ গুছা যা” টাঙ্গুয়ার হাওরে নেমেই আমার কন্যারা, দুই হাত উপরে তুলে হা করে তাকিয়ে আছে। আমিও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি তাদের দিকে

আমার স্ত্রী আফসোস করে বলেই ফেললো, ‘জীবনে কোনদিন যদি সুইজারল্যান্ড যেতে পারি তার জন্য কয়েকটা ড্রেস আলাদা করে রেখেছিলাম বাসায়... কেন সে সেই ড্রেসগুলো ব্যাগে ঢুকালাম না এবার’

আমার যে কন্যারা বাথরুমে কমড না থাকলে যেটার নাম দেয় ‘ব্যাড বাথরুম’, যে কন্যারা রুমে এসি না থাকলে ভাবে ‘এটা কমপ্লিট রুম না’, যে কন্যারা রুমে মাকড়শা থাকলে ভাবে আজ বুঝি জীবনের শেষ দিন... আমি সেই কন্যাদের নিয়ে আমি টানা ২৪ ঘন্টা হাওরের মাঝে নৌকায় থেকে এসেছি

চলে আসার সময় হাওরের প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছিল আমাদের প্রত্যেকেরই

আমরা নৌকায় রান্না করে খেয়েছি, নৌকায় ঘুমিয়েছি, নৌকায় লুডু খেলেছি, নৌকায় পা ভিজিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে জোছনা খেয়েছি হা করে

নৌকায় বসেই শপিং করেছি যখন পাশে বাজারী ছোট নৌকা এসে দাঁড়িয়েছে। চুড়ি কিনেছি, হাত পাখা কিনেছি। অসাধারন এক অনুভূতি ।আমি তো একটা বাঁশিও কিনে ফেলেছি ।

কেনার পরপরই, মোবাইল পকেটে লুকিয়ে ইউটিউবে ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি ’ গানটার বাঁশির টিউন ছেড়ে, বউকে অবাকও করে দিয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য সে জল ভরা চোখে আমার বাশী বাজানো দেখছে।

কি অপূর্ব এক দৃশ্য

(হাওরের মাঝে আবার নেটের অবস্থা বেগতিক... তার চোখের জল আসে আসে অবস্থায় গেলো ইউটিউব হেং করে যাই হোক, সেই গল্প আরেকদিন বলা যাবে)

যারা টাঙ্গুয়ার হাওরে এখনও যাননি, তাদের বলছি; জীবনে একবার হলেও ফ্যামিলি নিয়ে সেখান থেকে ঘুরে আসবেন

শরীরের প্রতি যত্ন নিতে কতকিছুই না আমাদের করতে হয়; ব্যায়াম করি, চায়ে চিনি কম খাই, ডিনারে ফ্যাট কম খাই... ব্লা ব্লা কিন্তু মনের প্রতি যত্ন নিতে আমরা কি করি? কিছুই না, ট্রাস্ট মি, এই টাঙ্গুয়ার হাওর মন সুস্থ রাখার জন্য একটা থ্যারাপির মতো কাজ করবে ফিরবেন একদম ফ্রেশ হয়ে... নতুন এক আত্মা নিয়ে, শুদ্ধাচারী হয়ে

‘বাবা শুদ্ধাচারী ইংরেজি কি?’

“ভাগ সামনে থেকে... থাপড় খাবি এলোপাথাড়ি”


#বাংলা সাহিত্য

ভ্রমণ পিপাসু মানুষ এমনেই আমার প্রিয়। ভ্রমণ পছন্দ করেন এমন মানুষ পাওয়া খুবই মুশকিল। ভমন শুধু মানুষকে আনন্দই দেয়না মনের মনের প্রশান্তি ও দেয়। নিজেকে প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দেয়ার আনন্দই আলাদা। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার পাহাড় আর সমুদ্রই পছন্দ। আমি বেশ কয়েকবার এই দুটোর সান্নিধ্যে গিয়েছে। নিজেকে খুঁজেছি। আমি যতবার গিয়েছি নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করেছি। জীবনে এ অল্প সময় যদি পারেন দেশ ও বিশ্ব ঘুরে আসুন। 

ভালোবাসা রইলো সকল ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের জন্য।




1 comment:

Powered by Blogger.