Header Ads

Header ADS

গ্রামের লাজুক মেয়ে ( ২য় পর্ব )

গ্রামের লাজুক মেয়ে 




আমিঃ কেমন যেনো মেয়েটা... আমায় দেখলে হি হি করে হাসে, আবার কিছু জিগ্যেস করলেও হি হি করে হাসে, এর কারন কি?? আন্টি...

আন্টিঃ আসলে বাবা, ওর একটা সমস্যা আছে। সেটা হল ও অনেক লজ্জাবতী মেয়ে। যত লজ্জা পায়, তত হাসে... তোমায় হয়তো আগে থেকে চিনে বা নাম শুনছে তোমার, সেই জন্য তোমায় দেখলে লজ্জা পেয়ে হেসে দেয়। খুব লজ্জা ওর। আর এমনিতেও ও খুব হাসতে পারে। লজ্জা পেলেও হাসে, বকা দিলেও হাসে, কান্নার সময়ও কেউ একটু দুষ্টুমি কথা বললেও হি হি করে হেসে দেয়। ওর মন টা খুব ভালো। 

কেনো বাবা... ওর হাসি তোমার কাছে খারাপ লাগে নাকি??

আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললামঃ হুমম খুব সুন্দর হাসি তার 😌

আন্টিঃ হুমম বুঝতে পারছি, তোমার আম্মুর সাথে কথা বলতে হবে, তোমার আর রিতুর বিয়ের ব্যাপারে 🤭

আমি আরেকটু বেশি লজ্জা পেয়ে বললামঃ আন্টি কি যে বলেন। আচ্ছা আন্টি আমরা তাহলে আসি... 😌

আন্টিঃ হুমম তোমার মুখের হাসি বলে দিচ্ছে তুমি বিয়েতে রাজি হবে রিতুর সাথে, হা হা হা। আচ্ছা বাবা, তাহলে আসো। যখনি সময় পাবে, এখানে এসে বেড়িয়ে যাবে ওকে...

আমিঃ ঠিক আছে আন্টি।

তারপর আন্টির থেকে বিদায় নিয়ে CNG করে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে আসলাম। আন্টি বলছিলো রিতুর বমি হয় বাসে, তাই AC বাসের টিকিট কাটতে গেলেও না পেয়ে চেয়ার কোর্স বাসের টিকিট কাটতে হল। এতো সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে কত পথ CNG করে এলাম, একটাও কথা নেই মেয়ের মুখে। কি মেয়ে রে বাবা। মনে হয় পুতুল নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। একটু পর পর আমার দিকে তাকিয়ে হি হি করে... 😐

কিন্তু কথা তো আমাকে বলাতে হবে তাকে, যেই ভাবে হল 😁 আমিও কি কম সয়তান নাকি হুমম 😁 শত হলেও সে বিয়ান মানুষ, একটু দুষ্টুমি হলে আরকি...

বললাম, চলুন বাথরুমে। কারণ ৩ ঘন্টার মধ্যে আর বাস দাঁড়াবে না কোথাও...

আমার কথা মতো আমার পিছনে হাটতে শুরু করলো। মহিলা বাথরুম দেখিয়ে দিয়ে আমি একটু দুরে দাড়িয়ে আছি। 

পাশে দেখি একটা কুকুর দাড়িয়ে আছে, সয়তানি বুদ্ধি এলো। সে কথা বলবে না, কত তে দেখবো আমি 😡...

কুকুর কে হুশশ হুশশ করে বাথরুমের দরজার কাছে পাঠিয়ে দিলাম 😁

মানে যখনি দরজা খুলবে রিতু, আর সে ভয় পাবে কুকুর দেখে, তখন ভয় পেয়ে তাকে কুকুর থেকে বাঁচানোর জন্য আমায় বলবে হি হি, আবার এমনি হতে পারে, ভয় পেয়ে দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো আমায় লজ্জাবতী মেয়ে, হি হি .. কত বুদ্ধি আমার 😇

ঠিক যা চাইছি তাই হল। দরজা খুলতেই কুকুর রিতুর দিকে তাকিয়ে ঘেউ করে উঠলো। রিতু ও ভয়ে আমাকে জোরে করে ডাক দিলো। কিন্তু যা বলে ডাক দিলো, মনটা আমার ভেঙ্গে চুড়ে গেলো 😭

ডাকটা ছিলো এমন " ভাইয়া, ওই ভাইয়া, কুকুর আমায় কামড় দিচ্ছে "

পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে শেষ মেশ ভাইয়া বলেই ডাকতে হল 😭

ভাঙ্গা মন দিয়ে কুকুর কে তাড়িয়ে দিলাম।

তাকে নিয়ে বাসে উঠে গেলাম। বাসের ভিতরে রিতু গিয়ে বললো " ভাইয়া, আমি কিন্তু জানালার পাশে বসবো "

আবারও সেই ভাইয়া। হয়েছে আমার প্রেম করা বুঝতে পারছি। সুন্দরী মেয়েরা কেনো যে ভদ্র ছেলেদের ভাইয়া বলে বুঝতেও পারি না এটা । সেই জন্য এদের কপালে ভদ্র ছেলেও জুটে না। 

বললাম,, আচ্ছা আপনি বসুন জানালার পাশে...

আমি বাসের থেকে বের হয়ে এসে একটা দোকানে গেলাম।

একবার নাহয় ভাইয়াই বলছে, তাহলে কি সুন্দরী মেয়ের আশা ছেড়ে দিবো বুঝি..

দেখি আরেকবার চেষ্টা করে অন্য নামে ডাকাতে পারি কিনা..

আমি আবার সব সময় কোথাও বাসে করে গেলে, অনেক শুকনো খাবার নিয়ে যায় সাথে। আর এখন তো সুন্দরী মেয়ে পাশে, আরো বেশি করে নিতে হবে, দেখাতে হবে না আমার মন কতটা উদার 😁

আমরা ২ জন থাকলেও... 

চিপস ৬ টা...

প্যাকেট জুস ৬ টা...

বোতল জুস ৬ টা... 

বড় দুইটা চকলেট বক্স... আইসক্রিম ২ টা...

ঝালমুড়ি প্যাকেট ৬ টা...

চকলেট বিস্কুট প্যাকেট ৬ টা...

ক্রিম বিস্কুট প্যাকেট ৬ টা...

ললিপপ ১২ টা...

আরো কয়েক রকম চকলেট... 

একটু গরম থাকায় লাচ্ছি ২ টা সহ সব নিলাম।

ও মোর খোদা, সব কিছু প্যাকেট করে দিলো দোকানদার ভাই। হয়ে গিয়েছে প্রায় হাফ বস্তা.. 😳

সব কিছু নিয়ে বাসের মধ্যে ঢুকতেই দেখি রিতুর বিষন্ন মুখে এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেনো খুজতেছে।

আমি কাছে গিয়ে বললামঃ কি খুঁজছেন?

চোখ দিয়ে পানি বের করে দিয়ে বললোঃ আপনি কোথায় ছিলেন ভাইয়া?

আমিঃ কেনো? কোনো সমস্যা হয়েছে?

রিতুঃ এই ভাবে আমায় একা রেখে কোথায় চলে গিয়েছিলেন? যদি গাড়ি ছেড়ে চলে যাইতো?

~ আমি মনে মনে ভাবি, পাগলী টা আমায় নিয়ে কত টেনশন হচ্ছে। একদিনেই হয়তো আমার প্রেমে পড়ে গেলে ~

আমিঃ আমার জন্য খুব টেনশন হচ্ছিল বুঝি?

রিতুঃ না তো। আপনার জন্য টেনশন হবে কেনো আমার?

আমিঃ তাহলে যে চোখে পানি? সাথে কান্না..?

রিতুঃ সেটা তো আমার জন্য। আমি যদি হারিয়ে যেতাম। তাহলে বাসায় কিভাবে যেতাম। আর আমি শুনছি, সুন্দরী মেয়েদের একা হারিয়ে গেলে ছেলেরা ধরে নিয়ে বিয়ে করে নেয়, আমার কি হত তখন 😭 আমিও তো সুন্দরী তাই না ভাইয়া..?

~ মনে মনে ভাবছি, পাগলী দেখি নিজের প্রশংসা নিজেই করে। যদি তার সাথে আমার বিয়ে হয়, বিয়ের পর কত প্রশংসা করতে হবে তার চেহারার, আল্লাহ জানে ~

আমিঃ হুমম আপনি খুব সুন্দরী।

রিতুঃ ধন্যবাদ ভাইয়া।

রিতু চোখের পানি মুছতে শুরু করলো। আমি পাশে গিয়ে বসলাম। বাস ছেড়ে দিয়েছে। জানালা দিয়ে প্রচুর বাতাস আসছে। আমি মাঝে মাঝে লুকিয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছি। সে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকার কারনে বুঝতে পারছে না। আমি মাঝে মাঝে অনেক কিছু দেখিয়ে বলে দিচ্ছি এটার নাম কি, ওটার নাম কি, সে শুধু মাথা নেড়ে হুমম বলছে।

খুব একটা রোমান্টিক ব্যাপার। জীবনে প্রথম কেনো মেয়ের এতো কাছে বসে আছি, আবার তার সাথে কথাও বলছি। একটা অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে।

মনে পড়লো ওই খাবার গুলো কথা। খাবার গুলো তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম এগুলো আপনার জন্য। আমার হাত থেকে নিয়ে সব দেখতে লাগলো কি কি ভিতরে...

~ আমিতো মনে মনে হেব্বি খুশি। রিতু হয়তো এখন বলবে, আমার জন্য এতো কিছু এনেছেন, এগুলো আমি খুব পছন্দ করি, আপনি আমার মনের কথা জানলেন কি করে, তাহলে কি আপনি আমার মনের ভাষা বুঝতে পারেন....

এগুলো মনে মনে ভাবছি, আর লজ্জা পেয়ে মুচকি মুচকি হাসি দিচ্ছি, মনে হচ্ছে কেউ হয়তো আমায় সুরসুরি দিচ্ছে ☺..~

রিতু আমার দিকে আড় চোখ তাকিয়ে বললোঃ এগুলো কি আপনি বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন, আপনার বাচ্চা কাচ্চার জন্য? 🙄

~~ও মা গো, কত রোমান্টিক ভাবার মধ্যে এই মেয়ে কি বললো এটা, এটা শুনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। বিয়েই করলাম না, বাচ্চা কাচ্চা পেলাম কোথায় 😬~~

আমি চোখ গরম করেঃ কি বলছেন এগুলো? আমার বাচ্চা কাচ্চা আছে নাকি? ওগুলো আপনার জন্য😡

রিতুঃ আপনার কেনো ছেলে মেয়ে নেই?

আমিঃ না নেই 😬

রিতুঃ আপনার কি কেনো শারীরিক সমস্যা আছে, কেনোদিন বাবা হতে পারবেন না?

আমিঃ কি বলছেন এগুলো, আমার শারিরীক সমস্যা থাকবে কেনো হুমম?

রিতুঃ তাহলে কি আপনার স্ত্রীর সমস্যা?

আমিঃ কি বলছেন এগুলো? আমার স্ত্রীর হবে কেনো, আমিতো এখনো বিয়ে করি নাই 😬

রিতুঃ তাহলে কি আপনি চিরকুমার থাকবেন? জীবনে বিয়ে করবেন না?

আমিঃ বিয়ে করবো না নামে? বিয়ের বয়স হলে ঠিক বিয়ে করবো 😬

রিতুঃ আপনি এতো বড় হয়েছেন এখনো বিয়ে করেন নাই কেনো? আমাদের ওখানে তো এই বয়সের চেয়ে কত আগে বিয়ে করে... 😳

আমিঃ কত বছর বয়সে বিয়ে করে শুনি??

রিতুঃ ধরুন, ২৫-৩০ বছর বয়সে ছেলেরা বিয়ে করে আমাদের ওখানে।

আমিঃ এই যে ম্যাডাম, আমাকে কি আপনার বুড়ো মনে হয়?

রিতুঃ কেনো? আপনি বুড়ো নন?

আমিঃ মেজাজ গরম করাবেন না কিন্তু, আমার কি চুল পাকা দেখেছেন?

রিতুঃ না তো। আপনার চুল হয়তো কালো করছেন সব।

~~ মাথায় রক্ত উঠে গেলো, রাগের ঠেলায় এক টা চুল উঠাতে গিয়ে ২৫-৩০ টা চুল উঠে গিয়েছে, ও মা গো, কত ব্যাথা ~~

আমিঃ এই দেখুন আমার চুল, এগুলো কি আপনার কাছে কালো রং করা মনে হল?

রিতু হাতে চুল নিয়ে বললোঃ দেখে তো মনে হচ্ছে, রং করেন নাই 😳

আমিঃ তাহলে আমাকে বুড়ো বলছেন কেনো?

রিতুঃ তাহলে যে বুবু বললো...(বুবু মানে আমার শুবশ্রী ভাবি) 🙄

আমিঃ কি বলছেন আপনার বুবু..? শুনি..

রিতুঃ বুবু বললো, সে নাকি তার দাদা শ্বশুর কে পাঠিয়েছে আমাকে নেওয়া জন্য। আপনি কি তার দাদা শ্বশুর না?

আমিঃ হায় আল্লাহ, ওনি কি বলে এই সব। আমি তার দেবর হই দেবর, বুঝলেন?

রিতুঃ আমি এটা কখনো মানি না। বুবু আমায় মিথ্যা বলবে না কখনো। আপনি তার দাদা শ্বশুর আমি জানি।

মাথায় প্রচুর রাগ উঠে গিয়েছে 🥵

আমিঃ ঘোড়ার ডিম হই বুঝলেন। চুপ করে ওগুলো খাওয়া শুরু করেন। বাস থেকে নামার আগে যেনো ওগুলো খাওয়া শেষ হয় বুঝলেন। নাহলে খবর আছে আপনার 😐

চুপচাপ আইসক্রিম বের করে খেতে লাগলো...

পাশের সিটের থেকে এক বিবাহিত মহিলা, কোলে বাচ্চা আছে, সে রিতুকে ডাক দিয়ে বললোঃ- এই যে পিচ্চি মেয়ে, স্বামীর সাথে কি নিয়ে এতো ঝগড়া হচ্ছে গো..? ☺

রিতু তাকে বললোঃ আপু, ওনি আমার স্বামী না তো। ওনি আমার বুবুর দাদা শ্বশুর হয় 😊

সেই মহিলা টা, আমার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে আমার চুল, মুখ, হাত দেখতে লাগলে...

হায় আল্লাহ, আজ কোন পাগলীর পাল্লায় পড়লাম, ইজ্জত তো শেষ। এবার মনে হয় বুড়ো প্রমাণ করেই ছাড়বে 😫

আমার আর কি কথা বলার মত মুখ আছে, চুপ করে মাথা নিচু করে ফেললাম 😔

বাসায় যায়, তারপর শুবশ্রী ভাবির ব্যাপারটা দেখবো... হুমম।

একবার রিতুর মুখের দিকে তাকিয়ে আবার রাগে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। একা একা খাচ্ছে, একবার ও আমায় বলছে না, আপনি খাবেন কিনা... 😏

তারপর থেকে মন খারাপ ও সাথে রাগে মুখ ফুলিয়ে রাখছি। বাস তার নিজের গতিতে চলছে, জানালা দিয়ে মিষ্টি রৌদ্র ও মন শান্ত করা বাতাস আসতে...

কত চিন্তা ভাবনা করছি, কত রোমান্টিক গল্প করবো তার সাথে, তা তো হলেই না একমাত্র ভাবির জন্য। আমায় নাকি বলে আমি বুড়ো, এর থেকে অপমান হয় বুঝি। ভাবির উপর মেজাজ খুব খারাপ।

~ বাস এসে ফেরীতে উঠলো ~

আমি রিতুকে বললামঃ চলুন, নামুম।

রিতুঃ চলে এসেছি ভাইয়া আমরা?

আমিঃ হুমম বোন চলে এসেছি, নামুম (মন খারাপ করে)

রিতুঃ আচ্ছা।

~ রিতু বাস থেকে ফেরীর উপর নেমে আশেপাশে তাকাচ্ছে। চারদিকে শুধু পানি দেখে তার মুখ ভয়ে চুপসে গিয়েছে, দেখার মত কান্ড ~

রিতুঃ ভাইয়া আমায় কোথায় নিয়ে আসলেন?

আমিঃ আপনাকে এই পানির মধ্যে এখন ফেলে দিবো। কত বড় সাহস আপনার, আমায় বুড়ো বলছেন 😡

রিতুঃ সত্যি আমায় পানিতে ফেলে দিবেন?

আমিঃ হুমম, অবশ্যই। আপনার সাথে মজা করবো কেনো?

রিতুঃ প্লিজ প্লিজ ভাইয়া আমাকে ফেলবেন না প্লিজ 😟 আমি সাঁতার পারি না...

আমিঃ হা হা, তাই বললে কি হয়, আমাকে দাদু বলার স্বাদ আজ মিটিয়ে দিবো...

~ " আমি মরবো না " বলে দৌড়ে বাসে উঠতে গেলো ~

আমিঃ হা হা, বাসে উঠে লাভ নেই। বাস ও এখন পানিতে ফেলে দেওয়া হবে.. আপনার আর বাঁচা হল না..

~ রিতু দৌড়ে আবার আমার কাছে এসে বললো ~

রিতুঃ আর কখনো আপনাকে বুড়ো বলবো না। এই বারের মত কি মাফ করে দেওয়া যাবে না?

আমিঃ না দেওয়া যাবে না। যে আমাকে বুড়ো বলে আমি তাকে কখনো মাফ করি না হুমম...

রিতুঃ তাহলে কি আমার আর বাঁচার উপায় নেই?

আমিঃ হি হি, হুমম নেই।

~ রিতু কিছুক্ষণ মায়াবী চোখে 🥺 আমার দিকে তাকিয়ে থেকে..

হঠাৎ মুখ চেপে ধরে হি হি করে হেসে দিলো 🤭 ~

আমিঃ কি হল? পাগল হয়েছেন নাকি? এখন আপনাকে পানিতে ফেলবো, আর আপনি এমন করে হাসছেন..

রিতুঃ শয়তান ছেলে। আমি মনে হয় কিছু জানি না মনে করছেন...

আমিঃ কি জানেন?

রিতুঃ এটা ফেরী। ও ফেরী তো মাত্র বাস কে নদী পার করে দিচ্ছে। আসছে বুড়ো আমায় পানিতে ফেলতে। বুড়ো হয়েছে কিন্তু বুড়োর ঢং যায় দেখছি। ঢং দেখলে মরে যায়, মরে যায়...

আমিঃ আপনি দেখি খুব পাজি মেয়ে। ভাবি যেমন বলছিলো, তার সাথে একটুও মিল নেই আপনার দেখছি।

রিতুঃ কেনো? বুনু কি বলছে আমার কথা?

আমিঃ আপনার নামে আপনার বুবু কত সুনাম করলো। এখন দেখি 🙄

রিতুঃ এখন কি দেখেন? আর কি সুনাম করছে শুনি?

আমিঃ ভাবি বলছিলো, আপনি নাকি খুব লাজুক। কেনো ছেলেদের সাথে কথা বলেন না। সব সময় চুপচাপ থাকেন। কিন্তু এখন দেখছি আপনি খুব দুষ্টু পাজি মেয়ে..

রিতুঃ আমি পাজি মেয়ে 😡... বুবু ঠিকই বলছে, আমি খুব লাজুক। আমার ছেলেদের সাথে কথা বলতে লজ্জা লাগে খুব। কিন্তু আপনি তো আর ছেলে না, তাই লজ্জা লাগছে না কথা বলতে.. হি হি

আমিঃ আমি ছেলে না মানে? আমি তাহলে কি?

রিতুঃ আপনি ছেলে কে বললো? আপনি হলেন বুড়ো দাদু.. আর আমার বুড়ো দাদুদের সাথে কথা বলতে লজ্জা লাগে না। তাদের সাথে অনেক দুষ্টুমি করি আমি.. হি হি

আমিঃ আমার আর কিছু বলার নেই। বাসায় যায়, তারপর আপনার বুবুর সাথে যোদ্ধ হবে, আমি তার কবে কার দাদা শ্বশুর হয় 😡

রিতুঃ আচ্ছা ঠিক আছে বুড়ো দাদু.. 😁

আমিঃ আপনার নাম তো রিতু? প্লিজ রিতু ম্যাডাম, আমায় আর বুড়ো দাদু বলবেন না ওকে। আমার কিন্তু খুব রাগ উঠে..

রিতুঃ আচ্ছা আর বলবো না ভাইয়া...

আমিঃ চলুন ওই দিকে নিরিবিলি জায়গায় যায়...

রিতুঃ হুমম চলুন ভাইয়া...

~ একটু সাইডের দিকে গিয়ে দাড়ালাম ~

আমিঃ সিদ্ধ ডিম খাবেন...?

রিতুঃ সিদ্ধ ডিম খেতে কেমন যেনো লাগে আমার...

আমিঃ একটা খেলে কিছু হবে না।

~ সিদ্ধ ডিম বিক্রেতা ভাইয়াকে ডাক দিয়ে দুই জন কে ডিম দিতে বললাম। দুই জন কে ডিম কেটে ঝাল লবণ দিয়ে টাকা নিয়ে চলে গেলেন সে। দুইজন দাড়িয়ে ডিম খাচ্ছি ~

আমিঃ আচ্ছা আপনি রিলেশন করেন?

রিতুঃ রিলেশন কি...?

আমিঃঃ হা হা হা, আপনি রিলেশন মানে যানেন না..?

রিতুঃ না তো। রিলেশন কি ?

আমিঃ মানে প্রেম/সম্পর্ক ।

রিতুঃ ওহহহ।

আমিঃ কি বললেন না রিলেশন করেন?

রিতুঃ না ভাইয়া। কিন্তু কেনো?

আমিঃ এই বয়সে তো সবাই রিলেশন করে, তাই বললাম আরকি.. তাই রিলেশন করেন না কেনো?

রিতুঃ সত্যি বলতে তেমন কাউকে এখনো পাওয়া হয় নাই, যে আমার মনের মত হবে।

আমিঃ আপনার মনের মত বলতে? আপনার স্বপ্ন কেমন হবে আপনার প্রিয় মানুষ টি...?

রিতুঃ আমার মনের ইচ্ছা, একজন রাজকুমার আসবে আমায় নিতে, আমায় নিয়ে উড়ে উড়ে আকাশের মেঘের আড়ালে তার ছোট রাজমহলে নিয়ে যাবে, তারপর ওখানে আমরা খুব আনন্দের সাথে বসবাস করবো..

আমিঃ হা হা, তারপর বলুন?

রিতুঃ আপনি হাসছেন কেনো হুমম? তারপর আমি আর আমার সে রাজকুমার মেঘের উপর দিয়ে হাটবো, দৌড়াবো, খেলা করবো... 😇

আমিঃ হা হা, তারপর?

রিতুঃ আপনি হাসছেন কেনো?

আমিঃ হা হা এমনি। তারপর বলুন?

রিতুঃ বলুন বলছি, হাসছেন কেনো?

আমিঃ এমনি হা হা।

রিতুঃ বলুন বলছি, আমার কিন্তু কান্না আসছে এখন...

আমিঃ আচ্ছা, পৃথিবীতে এতো সাদা কালো মানুষ থাকতে, আপনি শেষে লাল নীল জ্বীন কে জীবন সঙ্গী বানাতে চান...??

রিতুঃ মানে? জ্বীন কেনো আমার জীবন সঙ্গী হবে?

আমিঃ আপনার যে স্বপ্ন, আপনাকে উড়িয়ে নিয়ে মেঘের উপর নিয়ে যাবে, আবার মেঘের উপর দিয়ে হাঁটাচলা করাবে, এটা তো আর মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, হয়তো জ্বীনই পারবে আপনার স্বপ্ন পূরন করতে। হবেন নাকি জ্বীনের বউ...??

রিতুঃ 😏😏 আপনি আমায় এই ভাবে অপমান করলেন?

আমিঃ কোথায় অপমান করলাম। আপনার মনের আশা পূরন কিভাবে হতে পারে বললাম হা হা...

রিতুঃ হয়েছে হয়েছে। এবার আপনি বলুন আপনার জীবন সঙ্গী কেমন চাই..?

আমিঃ চাইলে তো সব পাওয়া যায় না, কিন্তু এমন হলে খুশি হবো... ধরুন, তার কেনো অহংকার, হিংসা থাকবে না। মানুষ ছোট হক বা বড় হক, কাউকে ঘৃণা করবে না, মনটা থাকবে উদার মানে দান করতে পছন্দ করবে, আল্লাহর প্রতি সব সময় ভয় থাকবে, মুখটা মায়াবী থাকবে, খুব ভদ্র ব্যবহার থাকবে, সংসার নিজের দায়িত্ব মতো গুছিয়ে রাখবে, এবং আমায় সে অনেক অনেক ভালোবাসা দিবে। আমাকে ছাড়া আর কেনো পুরুষের কথা স্বপ্ন ও ভাববে না। 

যানেন, জান্নাতি নারীর একটা বিশেষ গুন থাকবে সেটা হলো, তারা নিজের স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে স্বপ্নেও কল্পনা করবে না। তার স্বামী কালো হক, ফর্সা হক, বা খাটোই হক... এই পৃথিবীতেও এখনো এখন নারী পাবেন, সেই সব নারীর মধ্যে জান্নাতী নারীর গুন আছে, স্বামীই তাদের কাছে সব।

রিতুঃ তাহলে আমার ইচ্ছে আরেকবার শুনবেন?

আমিঃ হুমম বলুন?

রিতুঃ সে ভদ্র থাকবে, চরিত্র সুন্দর থাকবে, কথা গুলো অনেক মিষ্টি থাকবে, সব সময় আমায় হাসাবে, সবার প্রতি সম্মান থাকবে, সে আমার জন্য সৎ টাকায় দুই বেলা হলেও নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আয় করে আনবে, মানে কুড়ে থাকবে না আবার অসৎ পথে বেশি দেওয়ার আশায় হারাম ও খাওয়াবে না, এবং অনেক অনেক ভালোবাসা দিবে আমায়...

আমিঃ আপনার চাওয়া গুলো কিন্তু খুব সুন্দর good girl...

রিতুঃ Thanks... আপনার চাওয়া গুলোও খুব সুন্দর, কিন্তু... 🤔

আমিঃ কিন্তু কি?

রিতুঃ আপনার চাওয়া গুলো খুব সুন্দর হলেও, এই বয়সে আর বউ কপালে জুটবে না গো বুড়ো দাদু (বলে হি হি করে হেসে দিলো)

আমিঃ আপনি আসলেই একটা দুষ্টু পাজি মেয়ে... 😠

রিতুঃ আচ্ছা দাদু ভাই আপনি তার চেয়ে চুপ থাকুন। দাদু ভাই আমার ডাব খেতে ইচ্ছা হয়েছে, ডাব কিনে দেন প্লিজ।

আমিঃ ওকে পিচ্চি মেয়ে, আপনার মত কুচি ডাব কিনে দিবো হুমম 😡

রিতুঃ হি হি হি, চলুন...

~ রিতুকে ডাব কিনে দিলাম, আমিও খেলাম। তারপর বাসে উঠে বসলাম। ঘাটে ফেরী ভিরলো। বাস আবার রাস্তায় উঠে চলা শুরু করলো। মনে মনে ভাবছি, আর রিতুর সাথে কথা বলবো না। ও শুধু আমায় বুড়ো বলে মন টা খারাপ করে দেয়। আর বুড়ো শুনতে মন চাচ্ছে না ~

কিছুক্ষণ পর ভাবি ফোন দিলো। ভাবির উপর আমার খুব রাগ জমে আছে...

আমিঃ হ্যালো, কে বলছেন..?

ভাবিঃ কি গো দেবর, আমার বোনকে পেয়ে আমায় ভুলে গেলে বুঝি?

আমিঃ না না, এমন মোটেও ভাববেন না যে আপনাকে ভুলে গিয়েছি। বাসায় আসি, তারপর দেখা হবে (রাগি ভাবে)

ভাবিঃ কি হয়েছে ভাইয়া, তুমি রাগ কেনো?

আমার বোন কি তোমার সাথে বাজে ব্যবহার করছে নাকি?

আমিঃ আপনার বোন বাজে ব্যবহার করবে কেনো? আপনি নিজে তো অনেক ভালো তাই না? (রাগ হয়ে)

ভাবিঃ ভাইয়া তুমি মাথা ঠান্ডা করো। নিশ্চিত পাগলীটা তোমার মাথা গরম করেছে। বাসায় এতো তারপর সব বলো ওকে।

আমিঃ হুমম বাসায় গিয়ে তো যোদ্ধ হবেই। রেডী থাকবেন ওকে...

ভাবিঃ হুমম আমি রেডি। আজ নাহয় সিদ্ধান্ত নিবেই তোমার ভাইয়ের সাথে সংসার করবো, নাকি তোমার সাথে সংসার করবো.. এটার সিদ্ধান্ত আজ হবেই (সয়তানী হাসি দিয়ে)

আমিঃ আমার বয়েই গিয়েছে আপনার সাথে সংসার করতে... মুটু ভাবি.. 😏

ফোন রাখলাম বায়...

~ কল কেটে দিয়ে পাশের সিটে তাকিয়ে দেখি পেত্নীটা মানে ভাবির পাগলী বোন মুখ চেপে ধরে হাসছে। এরা দুই বোন আসলে আমায় পাগল করে দিবে ~

বাস ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে থামলো। বাস থেকে নেমে পেত্নী কে নিয়ে রিক্সায় উঠলাম। রিক্সা এসে বাসার সামনে থামলো। তাকে বললাম, নামুন ম্যাডাম, চলে এসেছি। 

রিক্সা চালক আঙ্কেল কে ভাড়া দিয়ে বাসার মধ্যে ঢুকতে যাবো, এমন সময় রিতু বলো--

রিতুঃ ভাইয়া, একটা কথা শুনবেন প্লিজ।

আমিঃ হুমম বলুন। একটু তাড়াতাড়ি বলুন, আমার মন ভালো না (রাগি ভাবে)

রিতুঃ সরি ভাইয়া (মায়াবী ভাবে)

আমিঃ সরি কেনো?

রিতুঃ আসলে আপনার সাথে রাস্তায় আমি যত দুষ্টুমি করছি, আমি একটাও ইচ্ছা করে করি নাই, করতে হয়েছে(মায়াবী ভাবে)

আমিঃ করতে হয়েছে মানে??

রিতুঃ আসলে....... ~(#গল্প চলবে)~

গল্পঃ- গ্রামের লাজুক মেয়ে 👰

লেখকঃ- ইবনে হাসান ইমরান

পর্বঃ- ২..




No comments

Powered by Blogger.