তুমি প্রেমিক হতে পারনি | দোলনা বড়ুয়া তৃষা
তুমি প্রেমিক হতে পারনি
আচ্ছা ওড়নাটা ঠিক কতখানি বুক থেকে সড়ালে আমি প্রেমিকা হবো বলো তো? এই টুকু? এত?
কোমড়ের ভাজ টা লুকিয়ে রাখলেই আমি প্রেমিকা ম্যাটেরিয়াল হবো বলো তো?
ঠিক কোন কোন জায়গায় তোমাকে স্পর্শ করার সুযোগ দিলে আমি প্রেমিকার জাতে উঠতে পারি?
বলো না? ইনবক্সে ঠিক কত টা অশ্লীলতায় মেতে উঠলে আমি ঠিকঠাক প্রেমিকার মান পেতে পারি?
তোমার মাপকাঠিটা তো কখনো দাও নি, তাও বলে দিলে আমি প্রেমিকার ম্যাটেরিয়াল না।
কি গো? চুপ কেন? অবাক হচ্ছো বুঝি? আমার এই বাহারি পোষাক, স্ট্রেট করা চুল। আবেদনময়ী ঠোঁট। চর্বি গুলো ঝড়ে গেল কিভাবে গলা, পেট, কোমড় ছেড়ে তাই ভাবছো বুঝি?
খুব টানছে তাই না আমার এই আষ্টেপৃষ্টে থাকা জিন্স? হাই হিল? এই ফিনফিনে টপস?
হা হা, ভীষণ রকম হাসি পাচ্ছে তোমার এই মুগ্ধ চোখ দেখে। বিশ্বাস করো, ভীষণ রকম হাসি পাচ্ছে।
কত বার জুঁই গোলাপ লাগিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি। শুধু কয়েক মূহুর্তের জন্য তোমার এই মুগ্ধ চোখে বেজে যাওয়া কথার জন্য।
না, শাড়িতে ঠিক ওসব ফিল তোমার হতো না।
দেখ কি দারুণ সাজিয়েছি আমার আঙ্গুল, দামী মোবাইল হাতে একেবারেই পারফেক্ট। জানো তো, আলতা ব্যাপার তা ভীষণ ব্যাকডেটেট। ওসবে তোমাকে তাই ভুলানো যেতো না।
দেখ কি দারুন সুভাষ মেখেছি, কাঁচা বেলি জমিয়ে নাকি এই পারফিউম টা হয়।
কি মাতাল করা গন্ধ বলো!
আমাকে কি খুব আবেদনময়ী করে তুলেছে এইটা ? করেছে? ইচ্ছে হচ্ছে এখনিই ঝাপটে ধরো?
পেয়াজ হলুদের বিচ্ছিরি গন্ধ নেই,দেখ। আমার সেই চারশো টাকার লাল খয়েরী বাহারী শাড়িটা থেকে আসা তোমার ঘরেই রান্নার ঘ্রান নেই বলো। যেটা তোমার মা বের করে দিয়েছিলো।
নেই সেই লাল টিপে, সিধে সিঁথিতে মস্ত রেল লাইন। দেখ চ্যাটচ্যাটে তেল ও নেই। যেটা তোমার অবহেলার রাত জাগাই আমার মাথা ঘুরার কারণে দেওয়া হতো।
দেখ আধ উঠে যাওয়া নেইলপালিশও নেই হাতে। ঘেঁষে কাটা নেই নখ। থাকবে কেন? এখন তো আর তিন বেলা বাসন মাজতে হয় না বলো।
এই যে ছয় টা মাস, আমাকে দিয়েছো তুমি, বিশ্বাস কর, আমি ভীষণ রকম ঋণী। আমি নিজেকে ভালোবাসেছি। বিশ্বাস কর যত টা তোমাকে ভালোবেসেছি তার সামান্য শুধু নিজেকে ভালোবেসেছি। দেখ আমি নিজেকে কত আপন করতে পেরেছি সবার কাছে। নিজের কাছে।
আসসোস শুধু তোমাকে আপণ করতে পারি নি।
তোমার সে রাতের ব্যবহারে আমি মোটেও কষ্ট পাই না আজকাল। কি নিদারুন নিপাট সত্য!আমাকে ভালোবাসা যায় না আজকাল, আমি আর প্রেমিকা ম্যাটিরিয়েল নেই।
আজ যে ছিপছিপে, বাহারি সাজে, দারুন আমাকে দেখে তুমি থামিয়ে দিলে তোমার কলম খানা, বিশ্বাস কর এইটা আমি নয়, এইটা আমি কোন দিনেই ছিলাম না।
এইটা নকল আমি। এইটা দেখে তুমি, বাহ দারুন বলতে পারবে। তবে সারাটা দিন পাশে রাখতে পারবে না। ভীষণ রকম মলিন হয়ে যাবো৷ তারপর ঝড়ে পড়ব ভীষণ টান টান পাপড়ির গোলাপ টার মতো।
আমি যে মাটিতে লাগানো সজীব চারাটা বলো, আমি যে ওতেই বাঁচি। আমার বাহারী সাজ নেই, টান টান জামা নেই, ভীষণ মেইনটেইন করা শরীর নেই, আমি সারাক্ষন আবেদন ময়ী হাসি হাসি না বলো।
প্রাণ খুলে উচ্চস্বরে হাসি। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ি প্রিয় মানুষের গাঁয়ে।
আমি বেখেয়ালি চুল বাঁধি, নোলক পড়ি, আলতা পড়ি, কোমরে গুজে শাড়ি পড়ি,
বিশ্বাস করো এইটাই আমি!
আমি হাত পুড়িয়ে রান্না পারি, জ্বরে ঘোরে সেবা জানি, ঘাম মুছতে মুছতে হাসতে জানি।
তবু আমি প্রেমিকা হতে পারি নি।
তাই তুমি রোজ ছুটেছো নীল আলোর রাতে। রোজ মেতেছো ইনবক্সে ইনবক্সে। তুমি রোজ ঘুরেছো পার্কে মাঠে।
নিত্যনতুন সুভাষ চুলে নাক ডুবিয়ে মেতে উঠছো।
তবে তুমি আমার আলতা পায়ে, আধ উঠা নখে, সবুজ শাড়ির কালো কাজলে সাদা গোলাপের খোঁপার কখনোই প্রেমে পড়োনি। কারণ তুমি প্রেমে পড়তে জানো না।
আফসোস তুমি কখনো প্রেমিক হতে পারো নি।

No comments